Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

অগ্নিপথ হিংসা: কোচিং মাফিয়াদের হাত নেই তো?

ছবি: হিংসায় জ্বলছে ট্রেন(Credits: The Financial Express)


হঠাৎ করেই দেশের একাধিক রাজ্যে ‛অগ্নিপথ’ ও ‛অগ্নিবীর’ স্কিমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একটি-দুটি রাজ্য থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ এখন দেশের ১৬টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রথমে বিক্ষোভ দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা আর শান্তিপূর্ণ নেই। এখন সরকারি সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া, ট্রেন জ্বালিয়ে দেওয়া, অবরোধ, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পত্তি ধ্বংস করা চলছে। 

সাধারণভাবে ভাবলে এটাই মাথায় আসে যে, এই স্কিমের কারণেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে যুবকরা। যেহেতু অনেক যুবক আবার হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ ও হিংসায় নেমে পড়েছে, তাতে এদেরকে দেশপ্রেমিক ভাবা স্বাভাবিক। কিন্তু যারা সেনাবাহিনীতে যেতে চায়, তাঁরা কেন দেশের মধ্যেই অস্থিরতা ছড়াচ্ছে? প্রশ্নটা এখানেই।

একজন সেনার দায়িত্ব দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা, দেশের ভিতরে শান্তি বজায় রাখা এবং দেশের সেবা করা। তার জন্যই সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে যায় যুবকরা। সব থেকে বড়ো কথা সেনাবাহিনী এমন একটি স্থান, যেখানে এখনও ঘুষ না দিয়ে চাকরি হয়। 

কিন্তু এর বাইরেও একটি বড়ো জগৎ রয়েছে। তা হলো কোচিং মাফিয়ার জগৎ। দেশের প্রায় প্রতিটি ব্লক ও মহকুমায় সেনাবাহিনী, CRPF, রাজ্য পুলিশ, বিমানবাহিনী ও নেভিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এমন কোচিং মাফিয়া রয়েছে। এই কোচিং মাফিয়ারা বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপন দেখে বহু যুবক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

তারপর কোচিং মাফিয়া ওই যুবকদের তাদের সেন্টারে নিয়ে যায়। সেই সেন্টারে মোটা টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়। চুক্তি এইরকম- যতদিন না চাকরি পাবে, ততদিন পর্যন্ত সে তাঁর সেন্টারে থাকবে এবং ট্রেনিং করবে। ট্রেনিং বলতে সকালে নিয়মিত ঘুম থেকে তুলে দৌড় করানো, ব্যায়াম করানো ইত্যাদি। এমনকি চুক্তির সময় স্কুলের পাশের সার্টিফিকেট ও অন্যান্য ডকুমেন্টস জমা নিয়ে নেয় কোচিং মাফিয়া।  অনেক ক্ষেত্রে সিলেকশন  হওয়ার পর টাকা দিতে না পারলে ডকুমেন্টস দেয়না এই মাফিয়ার, এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।

কারা চালায় এই কোচিং? বিশেষত, সেনা বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া কোনও একজন ব্যক্তি। তিনি তাঁর এলাকায় এমন কোচিং সেন্টার খুলে বসেন। অনেক সময় তাঁরা এও দাবি করেন যে তাঁর বিশেষ হাত রয়েছে। সব হয়ে যাবে। চিন্তা করার দরকার নেই। 
এভাবেই চলতে থাকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা।

সব চেয়ে বড় কথা ভারতীয় সেনা ও অন্যান্য ডিফেন্স ফোর্সে আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। কিন্তু আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। এর ফলে তাদেরকে আশা দেওয়া যায় কোচিং সেন্টার খুব সহজেই ব্যবসা করতে পারে। কিন্তু ‛অগ্নিপথ স্কীম’ কোচিং মাফিয়াদের ব্যবসার সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

কারণ অগ্নিপথ স্কীম যুবকদের সামনে এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। অতি সহজেই সেনাবাহিনীতে যুবকরা আবেদন করতে পারবে। শারীরিক ট্রেনিং করার পর সেনাবাহিনীতে চাকরি পাবে। পরে অবসরের পর তাদের হাতে সার্টিফিকেট থাকবে। আর সেই সার্টিফিকেট নিয়ে তাঁরা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংস্থায় চাকরি করতে পারবে। এমনকি পুলিশ, আসাম রাইফেলস সমেত অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ও অগ্রাধিকার পাবে। ফলে এই কোচিং মাফিয়াদের ব্যবসা মার খাবে। আর সেই কারণেই হয়তো যুবকদের হিংসায় প্ররোচিত করে পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
যারা দেশের সেবা করার ব্রত নিয়ে, হাতে বন্দুক নিয়ে দেশ রক্ষা করার স্বপ্ন দেখেছিল, তাঁরাই আজ দেশ জ্বালাচ্ছে। আর এর পিছনে হয়তো ‛আর্মি কোচিং মাফিয়া’-দের হাত রয়েছে। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom