Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

ইসলামিক জঙ্গীদের যৌন নির্যাতন : মুখ খুলছেন কাশ্মীর উপত্যকার নারীরা



© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

আমাদের দেশে সনাতন ধর্মকে কলুষিত করার অপচেষ্টা সদা বর্তমান । দেশদ্রোহী কমিউনিস্ট আর তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ সুশীল সমাজ কথায় কথায় সনাতন ধর্মের সাধু - সন্ন্যাসী এবং ধর্ম গুরুদের বিরুদ্ধে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন । সনাতন ধর্মকে পুরুষতান্ত্রিক বলে আক্রমণ করাও একটি চিরপরিচিত প্রচেষ্টা। কিন্তু অন্য পন্থাগুলির নেতৃবৃন্দ কিভাবে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন চালান তার প্রমাণ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে চলেছে।  ঘটনার পটভূমি কাশ্মীর উপত্যকা।  2019 সালে ভারতের সংবিধানের অন্যতম কলঙ্কিত ধারা - ধারা 370  উঠে যাবার পর ইসলামিক মৌলবাদীদের কাশ্মীরি সমাজের উপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে।  আর সঙ্গে সঙ্গে মুখ খুলছেন উপত্যাকার মহিলারা যাঁরা এই অঞ্চলে ইসলামিক জঙ্গিদের এবং সন্ত্রাসবাদীদের যৌন-লালসার সাক্ষী থেকেছেন।  বামপন্থী ও ধর্ম নিরপেক্ষ মিডিয়া যত মনোযোগ সহকারে ইসলামিক জঙ্গীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে ব্যস্ত,  তার সিকিভাগ সহানুভূতি ও দেখায় না এইসব অসহায় মহিলাদের উপর হওয়া অত্যাচারকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে।


দুঃখের বিষয় হল কাশ্মীরের সমাজ প্রচন্ড প্রতিক্রিয়াশীল এবং পুরুষতান্ত্রিক।  তাই এইসব অত্যাচারিত মহিলাদের দুঃখ কখনোই প্রকাশ্যে আসে নি। বর্তমানে এইসব অত্যাচারিত মহিলারা প্রকাশ করছেন কিভাবে মুসলিম সমাজে উচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত জিহাদী জঙ্গীরা তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন করেছে। সম্প্রতি The Diplomat নামক একটি ইংরেজি পত্রিকার একটি প্রতিবেদন কাশ্মীরি মহিলাদের উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের মর্মন্তুদ কাহিনী প্রকাশ করেছে।  সেখানে ইসলামিক জঙ্গীদের যৌন লালসার শিকার হওয়া কয়েকজন মহিলার স্বীকারোক্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে সেই সব স্বীকারোক্তি তুলে ধরা হল। অত্যাচারিত মহিলাদের পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাঁদের নাম পরিবর্তিত হল। 


 বারামুল্লার আফরোজা


 আফরোজার বর্ণনা অনুযায়ী অন্যান্য স্থানে জঙ্গিরা যেরকম ভাবে খাদ্যের জন্য আসে,  সেভাবেই জঙ্গীরা প্রথমে তাঁদের বাড়িতে এসেছিল।  প্রথমে তারা খাদ্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করেছিল । তারপর এটা সেটা চাইতে আরম্ভ করে । আফরোজা বলেন যে তাঁরা চেষ্টা করতেন তাদের পক্ষে  সবচেয়ে ভালো যেটা সম্ভব,  সেটাই তাদের দিতে । কিন্তু এক সময়ে তারা ঘনঘন আসতে লাগল আর নিত্যনতুন দ্রব্য চাইতে লাগল। এরপর তারা ক্রমে তাঁদের বাড়ির একটা ঘরের দখল নিল।  তাঁদের  ছোট বাড়িতে মাত্র দুটি কক্ষ ছিল। তার মধ্যে একটি কক্ষের দখল জঙ্গীরা নিয়ে নিয়েছিল । আফরোজার ভাষায়,  "আমরা মহিলারা সারাদিন রান্নাঘরে দিন কাটাতাম। আর তারা বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ডেকে পাঠাত।  কখনো জল,  কখনো খাবার আনার জন্য তাদের ঘর থেকে অনুরোধ আসত।  আর যেই মুহুর্তে আমি ঘরের মধ্যে যেতাম , আমাকে নানাভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হত। মাত্র 12 বছর বয়স হবার জন্য আমি তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য তখন বুঝতে পারিনি । আমি শুধু যেটুকু বুঝতাম যে যা ঘটছে সেটা সঠিক নয় । তাদের স্পর্শ আমাকে যন্ত্রণা দিত । এভাবেই বহুদিন চলতে থাকে। "  এভাবেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন আফরোজা


আফরোজার ছোটবোন সেই সময় নবম বর্ষীয়া ছিল । জেহাদীরা তাকেও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করত যখন তাদের বাবা জঙ্গিদের অনুরোধ জানায় মেয়েদের উপর অত্যাচার না করতে,  তখন জঙ্গিরা তার বাবাকে বাজারে এনে গুলি করে হত্যা করে। 


 কুপওয়ারার বিসমাহ


বিসমাহের স্বামীকে জঙ্গিরা তথ্য আদান প্রদান কারী সন্দেহে হত্যা করে। তাঁর স্বামী ছিলেন একজন ড্রাইভার। সেই রাত এখনো তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। বিসমাহের স্বামীকে হত্যা করার পরেই জঙ্গীরা জোর করে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় এবং সমস্ত রকম ভাবে তাঁর ওপর অত্যাচার করে।  এই অত্যাচার ছিল পাশবিক , নির্মম এবং অকল্পনীয় । শুধু তাঁর স্বামীকে হত্যা আর  বিসমাহকে গণধর্ষণ করেই জঙ্গীরা তাদের প্রতিশোধ সম্পূর্ণ করেনি,  বছরের পর বছর ধরে তাঁদের উপর অত্যাচার চলতে থাকে । এই দুঃস্বপ্নের অত্যাচার যখন শুরু হয় তখন বিসমাহের বয়স ছিল 18 । আর শেষ হয় যখন,  তাঁর বয়স তখন 27 বছর।  অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি জানান  যে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে তিনি গেছেন,  সেটা শুধু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই জানেন ।


 উরির ফিদা


জঙ্গীদের দ্বারা অত্যাচারিত ফিদাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে  কেন তিনি তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ করেননি,  তখন ফিদা জানান যে অত্যাচার হওয়ার সময় তিনি ছিলেন অজ্ঞ,  দরিদ্র এবং ক্ষমতাহীন।  সেই কারণে তাঁর বক্তব্য শোনার মত কেউ ছিলনা এবং তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের কথা শুনতে কারো আগ্রহও ছিল না । তিনি বলেন যে এই সকল বিষয়ে  কেউই দরিদ্রের পক্ষ নেয় না।  এরপর তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা দেন ফিদা। একদল জঙ্গী নিয়মিতভাবে তাঁদের গ্রামে আসত। উরির কাছেই অবস্থিত ছিল তাঁদের গ্রাম। এই জঙ্গিরা একদিন তাঁর স্বামীকে কাজের অজুহাতে অনেক দূরে নিয়ে চলে যায়। জঙ্গীরা এরপর তাঁদের বাড়ির সামনে এসে  শিবির স্থাপন করে এবং বললেও সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকার করে । জঙ্গীরা তাঁকে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য করত আর খাবার খেয়ে নেওয়ার পরেও সেখান থেকে তারা চলে যেতে চাইত না।  একদিন ফিদার বাড়িতে খাবারের শেষ টুকরো টুকুও  জঙ্গিরা খেয়ে নেয় এবং শেষে তাঁকে ধর্ষণ করে শান্ত হয়।  ফিদা বলেন যে সেই জঙ্গীরা কোন গোষ্ঠীর অন্তর্গত ছিল সেটা তাঁর জানা ছিল না।  কিন্তু এটুকু নিশ্চিত যে তাঁদের নৈতিকতা,  ন্যায়-অন্যায় বোধ বলে কিছু ছিল না । শুধুমাত্র মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য তারা ধর্মের সহায়তা নিত।  কেবল ঈশ্বরই জানেন যে কি পরিমাণ  শয়তানি ছিল তাদের অন্তরে।  অশ্রুসিক্ত চোখে ফিদা বলেন এইভাবে তিন - চার বছর তারা অত্যাচার চালিয়েছিল এবং এতজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে যে তিনি ধর্ষণকারী দের প্রকৃত সংখ্যা গুনে উঠতে পারেননি।  আলো-আধাঁরির মধ্যে কখনো চারজন,  কখনো আটজন একসঙ্গে তাঁকে ধর্ষণ করে।  তাঁর ভাষায়, " আমার শরীরের সমস্ত মাংস যেন তারা খেয়ে আমাকে ছিবড়ে করে ছেড়ে দেয়। "  এই কথা বলার সময় তিনি তাঁর শীর্ণ হাত গুলি দেখান । বর্তমানে তিনি লোকের বাড়িতে কাজ করে রোজগার করেন।


 গান্দেরওয়ালের ফাতিমা


ফাতিমার  গান্দেরওয়ালের বাড়িতে জঙ্গীরা প্রথম  আসে 2005 সালে , যখন তাঁর বয়স মাত্র 14 বছর । তিনি বলেন জঙ্গীরা  দরজায় এসে  জল চায়।  যখন আমরা দরজা খুলি তখন জঙ্গিরা  ফতিমাকে লক্ষ্য করে এবং তারপর থেকেই কারণে-অকারণে  তাঁদের বাড়িতে আসতে থাকে। ঘটনাচক্রে তার কিছুদিন বাদেই তাঁর বাবা বাড়ির কাছেই খুন হন।  তাঁর বাবা ছিলেন দিনমজুর এবং বাড়ির অভিভাবক । তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে ফাতিমা সহজেই জঙ্গীদের শিকারে পরিণত হন। ফাতিমার ভাষায় , " তারা বাড়িতে ঢুকে  আমার অঙ্গের বস্ত্র খুলে নেয় এবং আমাকে তাদের সঙ্গে বিছানায় শুতে অনুরোধ করে।  আমি তীব্র প্রতিবাদ করলে আমার মাথার চুল ধরে আমাকে টানতে টানতে নিয়ে যায় ।"  গভীর দুঃখ নিয়ে তিনি বলেন যে তাঁকে এমন ভাবে ধর্ষণ করা হয় যে তাঁর পিঠ এবং মেরুদন্ডের ক্ষতি হয়ে যায় । এটাই কি জিহাদ?  এটাই কি ধর্ম ? রাগত স্বরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন ফতিমা।  এরপর প্রতিমা আরো জানান যে বাড়ি থেকে তাঁর এক হুইলচেয়ার বদ্ধ  ভাইয়ের সঙ্গে দূর গ্রামে তাঁর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় । তিনি অন্য গ্রামে থাকতে শুরু করেন।  কিন্তু বিবাহের পরেও জঙ্গীরা তাঁর ঠিকানা খুঁজে সেখানে পৌঁছে যায়।  তখন তিনি একটি সন্তানের মা এবং আরেকটি সন্তান তাঁর পেটে । এই অবস্থাতেও তিনি জঙ্গীদের অত্যাচারের শিকার হন । ক্রমাগত যৌন অত্যাচারের ফলে ফতিমার মেরুদন্ড জনিত সমস্যা এবং সন্তান জন্ম দেবার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়।


জিহাদী নাশকতা ও কাশ্মীর


কাশ্মীর উপত্যকাতে জিহাদি নাশকতা জনপ্রিয় হয় নব্বইয়ের দশকে পণ্ডিতদের  বিতারণের থেকে বহু পূর্বেই । বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা এবং মৌলবাদীরা মিলিতভাবে উপত্যকাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দেন এবং জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন । অনেক মানুষ বিশেষত মহিলারা জঙ্গীদের খাইয়ে , জামা কাপড় ধুয়ে দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে তাদের ভারতীয় সৈন্য বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত করেন।  এর ফলাফল হয় ভিন্ন রূপ । অনেক মৌলবাদী রাজনৈতিক নেতা কাশ্মীরি মহিলাদের কাছে আবেদন জানান যে তাঁরা যেন তাঁদের  দেহ  তথাকথিত পবিত্র যুদ্ধের জিহাদিদের কাছে সমর্পণ করেন এবং গর্বিত স্ত্রী ও মা হন।  আবার বেশ কিছু মহিলা কঠিন শরীয়তী আইন প্রতিষ্ঠিত করার দাবি জানান।  যে সকল মহিলা শরীয়তী পোশাক বিধি মানতে অস্বীকার করেন,  তাঁদেরকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। যাইহোক,  এর সামগ্রিক ফলাফল হয় কাশ্মীরি মহিলাদের উপর ভয়ংকর অত্যাচার।  যেসব মহিলারা এইসব মানতে অস্বীকার করেন তাঁদের উপরেই নেমে আসে অত্যাচারের খাঁড়া। কিন্তু সেকুলার রাজনীতিবিদরা এই ধরনের নাশকতা কাশ্মীরে যে হয়েছিল, সেটা স্বীকারই করেন না।  মুখে তাঁরা নারী স্বাধীনতার কথা বললেও এবং নিজেরা সেই স্বাধীনতা ভোগ করলেও,  জিহাদিদের সমর্থন করতে গিয়ে তাঁরা ভুলে গেছেন যে কাশ্মীরি মেয়েদেরও ব্যাক্তি  স্বাধীনতা আছে। কাশ্মীরি মহিলাদের এইসব অত্যাচারের মর্মন্তুদ কাহিনী  জানলে বোঝা যায় জঙ্গীরা কিভাবে মজহবের নামে নিজেদের  মহিলাদের উপরই অত্যাচার চালিয়েছে।  আর যেসব সাধারণ মানুষ এই জঙ্গীদের সাহায্য করেছে , তাদেরও খুন হতে হয়েছে এবং তাদের বাড়ির মহিলাদের সম্মান নষ্ট হয়েছে।  আজ সময় এসেছে কাশ্মীরে আজাদীর নামে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষত মহিলাদের উপর যে অত্যাচার জঙ্গীরা চালিয়েছে তা  বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করার। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom