Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ: শ্রীমল্লিকার্জুন



© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

শ্রীমল্লিকার্জুন ( শ্রীশৈলম)

কাশ্যাং তু মরণাৎ মুক্তি , স্মরণাৎ অরুণাচলে , দর্শনাদেব শ্রীশৈলে পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে ।* 

( কাশীতে মরলে মুক্তি,  অরুণাচলে স্মরণে মুক্তি এবং শ্রীশৈলে দর্শনে মুক্তি) 

পবিত্র শ্রীমল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীর তটে শ্রীশৈলম পর্বতের উপর অবস্থিত। এই পর্বতকে দক্ষিণের কৈলাস বলা হয়। মহাভারত , শিব পুরাণ  পদ্মপুরাণ ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থাদিতে এর মহিমা এবং মাহাত্ম্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব নিয়ে নানা কাহিনী  প্রচলিত রয়েছে। একবার ভগবান শংকর এর দুই পুত্র শ্রী কার্তিক ও  শ্রী গণেশ বিবাহের জন্য পরস্পরের সঙ্গে কলহে লিপ্ত হন। প্রত্যেকে নিজের বিবাহ যাতে আগে হয় তার জন্য আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের দুইজনকে বিবাদ করতে দেখে ভগবান শংকর এবং মাতা ভবানী বলেন, 

" তোমাদের মধ্যে যে আগে সমস্ত পৃথিবী পরিক্রমা করে এখানে ফিরে আসবে তার বিবাহ প্রথম দেওয়া হবে।" 

মাতা ও পিতার এই কথা শুনে শ্রী কার্তিকেয় দ্রুত পৃথিবী পরিক্রমা করতে বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু শ্রী গনেশ এর পক্ষে এই কাজ ছিল বড় কঠিন। আকৃতিতে তিনি স্থূলকায়, তাছাড়া তাঁর বাহন হলো মূষিক । তিনি কিভাবে কার্তিকের সঙ্গে দৌড়ে সমকক্ষ হবেন? কিন্তু শ্রী গণেশ ছিলেন বুদ্ধিমান। তিনি অবিলম্বে পৃথিবী পরিক্রমার এক সহজ উপায় বার করলেন। তিনি উপবিষ্ট মাতা-পিতাকে পূজা করে তাঁদের সাত বার প্রদক্ষিণ করে পৃথিবী পরিক্রমার কাজ সম্পূর্ণ করে নিলেন। এই কাজ ছিল শাস্ত্র অনুমোদিত। 


" পিত্রোশ্চ পূজনং কৃত্বা প্রক্রান্তিং চ করোতি য: ।


তস্য বৈ পৃথিবীজন্যং ফলং ভবতি নিশ্চিন্তম ।।" 


সমগ্র পৃথিবী পরিক্রমা করে শ্রী কার্তিক যখন ফিরলেন, ততদিনে সিদ্ধি এবং বুদ্ধি নামধারী দুটি কন্যার সঙ্গে শ্রী গণেশের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং ক্ষেম ও  লাভ নামক দুটি পুত্র ও হয়েছে। এইসব দেখে শ্রী কার্তিকেয় অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং ক্রৌঞ্চ (শ্রীশৈলম) পর্বতের উপরে চলে গেলেন। শিব ও পার্বতী তখন চললেন তাঁদের পুত্র শ্রী কার্তিকের মান ভঙ্গ করতে, কিন্তু গিয়ে দেখলেন শ্রী কার্তিক সেখান থেকে চলে গেছেন। ভগবান শংকর বললেন যে তিনি সেখানেই থাকবেন এবং অপেক্ষা করবেন শ্রী কার্তিকের জন্য। তখন তিনি লিঙ্গ মূর্তি ধারণ করে সেখানে রয়ে গেলেন। সেই লিঙ্গ মূর্তি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম শ্রী মল্লিকার্জুন। এনাকে সর্বপ্রথম মল্লিকা পুষ্প দ্বারা অর্চনা করা হয় বলে এনার নাম মল্লিকার্জুন ।

দ্বাপর যুগের একটি কাহিনী অনুযায়ী একবার নাল্লামালাই পাহাড়ে শিলাদি মুনি কঠিন কঠোর তপস্যা করছিলেন বছরের পর বছর ধরে। মহাদেব সেই সাধনায় তুষ্ট হয়ে শব্দব্রহ্ম রূপে উপস্থিত হলেন শিলাদি মুনির সামনে । ভগবান শংকর জিজ্ঞাসা করলেন , 

" কী বর চাও?"

শিলাদি মুনি বর হিসেবে একটি পুত্র সন্তান কামনা করলেন। যথারীতি শিলাদি মুনি একটি পুত্র সন্তান লাভ করলেন। সেই পুত্র ছোটবেলা থেকেই ছিল শিব ভক্ত। সেও চায় শিবের দর্শন। কিন্তু মানব দেহের পক্ষে মহা জ্যোতি র তেজ সহ্য করা সম্ভব ছিল না। তাই বারবার দৈববাণী দিয়ে তাঁকে সাবধান করতে লাগলেন দেবাদিদেব। কিন্তু শিলাদি পুত্র সে কথা শুনল না। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব আবির্ভূত হলেন। সে এক  তেজোময় মহাজ্যোতি ! তার প্রভাবে অন্ধ হয়ে গেলেন শিলাদি মুনির ছেলে, আর বিলীন হয়ে গেলেন সেই মহা জ্যোতির  মধ্যে। সেই মহাজ্যোতি জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে রয়ে গেল শ্রীশৈলম পাহাড়ের উপরে। 

এই জ্যোতির্লিঙ্গ বিষয়ে আরো একটি কাহিনী আছে। এই কাহিনী অনুযায়ী শ্রীশৈলম পর্বতের কাছে কোন সময়ে রাজা চন্দ্রগুপ্তের রাজধানী ছিল। কোন বিপত্তি নিবারণের জন্য রাজার এক কন্যা রাজকুমারী চন্দ্রাবতী মহল থেকে বেরিয়ে এসে পর্বত রাজের আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন শিব ভক্ত। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি অতি সুলক্ষণযুক্ত,  সুন্দর শ্যাম বর্ণের গাভী। এই গাভীর দুধ কেউ রাত্রে দোহন করে চুরি করে নিয়ে যেত। একদিন রাত্রে রাজকন্যা চোরকে দুধ দোহন করতে দেখে ফেলেন এবং ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে হাতেনাতে ধরতে দৌড়ে যান। কিন্তু গাভীর কাছে পৌঁছে তিনি দেখেন যে সেই স্থানে শুধুমাত্র একটি শিবলিঙ্গ রয়েছে, তা ছাড়া আর কিছুই নেই। রাজকুমারী কিছুকাল পরে সেই শিবলিঙ্গের ওপরে এক বিশাল মন্দির নির্মাণ করান। এই শিবলিঙ্গ মল্লিকার্জুন নামে প্রসিদ্ধ।

আরো একটি কাহিনী অনুযায়ী শ্রীশৈলম পর্বতের নিকটবর্তী জঙ্গলে বনবাসী চেঞ্চু ভীলেরা তাদের আরাধ্যা দেবী পার্বতীকে তাদের কন্যা বলে মনে করত। সেই সূত্রে তারা মল্লিকার্জুনকে নিজেদের জামাই ভাবত । বনবাসী চেঞ্চু ভাষায় ' চেঞ্চু মল্লিহা ' মানে নিজের জামাই। এই মল্লিহা থেকে মল্লিকা এসেছে। আজও বিশেষ উৎসবের দিনে চেঞ্চু বনবাসীদের বিশেষ সম্মানের স্থান থাকে। 

আরেকটি কাহিনী বলে এই সেই স্থান যেখানে অর্জুনের সঙ্গে কীরাত বা ব্যাধবেশী মহাদেবের যুদ্ধ হয় এবং ভগবান মহাদেব অর্জুনের বীরত্বে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে পাশুপত অস্ত্র দান করেন। কথিত আছে অর্জুন শ্রীশৈলম পরবর্তী এসে জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করেছিলেন।  তাই তাঁর নামের সঙ্গে এই জ্যোতির্লিঙ্গের নাম জড়িয়ে গিয়েছে। 

শ্রী মল্লিকার্জুন এর আদি মন্দিরটি ছোট, পর্বত শীর্ষে একটি বটগাছের নিচে অবস্থিত। বর্তমান মন্দির সম্ভবত বিজয়নগরের রাজারা নির্মাণ করান। 

বিজয়নগর রাজ্যের স্থাপত্যের নিদর্শন মন্দিরে রয়েছে। মন্দির ধূসর বর্ণের পাথরে তৈরি। মন্দিরটি চারটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে রয়েছে নন্দী মন্ডপের বিশাল ধাতুমল নন্দী এর নাম বীর শিরো মণ্ডপ। শিলালিপি থেকে জানা যায় এটি তৈরি করান অনভেমা রেড্ডি নামে এক রাজা। এখানে বহু শিব ভক্ত বীর নিজেদের মস্তক স্বেচ্ছায় ভগবান শিবের কাছে উৎসর্গ করতেন দেহান্তে শিব রূপ পাবার জন্য। দ্বিতীয় মন্ডপের নাম মুখমন্ডপ বা  নাট মন্ডপ। এটি তৈরি করান বিজয়নগর রাজ্যের রাজা শ্রী হরিহর রায়। এই মণ্ডপ গুলি পাথরে অলংকৃত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। নাট মণ্ডপের সামনে পূর্বদ্বারি গর্ভ মন্দির। রুপো দ্বারা নির্মিত ছোট্ট দরজার ওপাশে নন্দী ও ভৃঙ্গির দারোয়ানবেশের মূর্তি।  রুপোর চৌকাঠের মাথায় পূর্নঘট ও তার উপর একটি দেবী মূর্তি পদ্মকোরক হাতে নিয়ে দন্ডায়মান। দরজার বামদিকে ছোট একটি ঘরে রয়েছে শ্রী গণেশের মূর্তি। আর মন্দিরের মধ্যে রয়েছে ব্রোঞ্জের তৈরি নটরাজ মূর্তি : মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ। এই জ্যোতির্লিঙ্গ ২৫ সেন্টিমিটার উঁচু আর লিঙ্গের পিছনে রয়েছে রুপোর আস্তরণে  খোদাই করা পর্বতের ছবি। একটি গৌরীপট্ট লিঙ্গকে চতুষ্কোণ আকারে বেষ্টন করে উত্তর দিকে লম্বালম্বি দুটি ধারায় বেরিয়ে গিয়েছে। 

এই শ্রীশৈলম পাহাড়ের নিচেই অবস্থিত ৫১টি সতীপীঠের একটি পীঠ। শ্রী বিষ্ণু যখন সুদর্শন চক্র দিয়ে সতী দেহ খন্ড খন্ড করে ফেললেন, তখন মায়ের চিবুক পড়েছিল এই শ্রীশৈলম পর্বতের পাদদেশে, কৃষ্ণা নদীর তীরে। সতীর অঙ্গ পরেছিল কিছুটা জলে,  কিছুটা স্থলে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে মায়ের মন্দির। দেবীর নাম ভ্রামরী বা ভ্রমরাম্বা । এখানে ভৈরব হিসাবে বিরাজ করছেন শ্রীমল্লিকার্জুন।

 শ্রী মল্লিকার্জুন দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শৈবতীর্থ। এর অবস্থান যে শ্রীশৈলম পর্বতে,  সেই পর্বত  অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর নগরের কাছে অবস্থিত। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা বীরপুরুষদত্তের আমলে এই শ্রী পর্বত এবং সেখানে অধিষ্ঠিত দেবতা মল্লিকার্জুন এবং দেবী ভ্রমরাম্বার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পর্বতের আরেকটি নাম নাল্লা মালাই।  নাল্লা শব্দের অর্থ পবিত্র বা শ্রী আর মালাই মানে পর্বত। শোনা যায় এই জ্যোতির্লিঙ্গের আদি নাম ছিল ' মাল্লাইক্কারসার' । পরে সেটি হয় মল্লিকার্জুন। 

শ্রীশৈলম পর্বতের পাশ দিয়েই চলে গেছে কৃষ্ণা নদী। এই নদী এখানে গঙ্গা মাতার মত পবিত্র।   এখানে কৃষ্ণা নদী ১০০ মিটার চওড়া আর আর পাহাড়ের চূড়া থেকে পাকদন্ডী পথ বেয়ে সোজা নেমে এসেছে। এখানে এই নদী পাতালগঙ্গা নামে পরিচিত । তিন দিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে শ্রীশৈলম পর্বতকে। নদী এখানে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪৭৬ মিটার উচ্চ। সুপ্রাচীনকালে এখানে গভীর জঙ্গল এবং কলাগাছের বন ছিল।  সেই বনের মধ্যেই অধিষ্ঠিত ছিলেন শ্রী মল্লিকার্জুন এবং দেবী ভ্রমরাম্বা।  জ্যোতির্লিঙ্গ এবং দেবীর রক্ষক ছিলেন এই অঞ্চলের চেঞ্চু বনবাসীরা। 

নানা স্থানের প্রাচীন লিপি থেকে জানা যায় খ্রিস্টীয় প্রথম বা দ্বিতীয় শতক বিখ্যাত সাতবাহন রাজা গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর আমলে শ্রী শৈলম পর্বত তাঁর রাজ্য সীমার মধ্যে ছিল। সাতবাহন বংশে মাল্লা সাতকর্ণী নামে এক রাজা ছিলেন। মল্লিকার্জুনের আদি নাম মাল্লানা থেকেই এই নাম  নেওয়া হয়েছে বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। 

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে এখানে আসেন  ইক্ষ্বাকু বংশীয় রাজারা। এরপর এই স্থান শাসন করেন  পহ্লব - কদম্ব বংশ এবং বিষ্ণুকুন্ডী বংশ। এইসকল বংশের রাজারা ছিলেন শিবভক্ত। এনাদের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রাদুর্ভাব কমে গিয়ে সনাতন ধর্মের প্রভাব বাড়তে থাকে। বৌদ্ধ তীর্থ নাগার্জুনকোন্ডার প্রতাপ কমে গিয়ে একই পাহাড়ের অন্য অংশে অবস্থিত শ্রী মল্লিকার্জুনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় শ্রী মল্লিকার্জুন ' শ্রীপর্বত স্বামীন মহালিঙ্গ'   নামে পরিচিত ছিলেন । সেই সময় থেকেই অনেক যোগী মহারাজ এখানে এসে আরণ্যক পরিবেশে পর্বত গুহায় তপস্যা করতেন। আচার্য শঙ্কর তাঁর পরিব্রাজক জীবনে সশিষ্য এখানে এসেছিলেন এবং কাপালিকদের পরাভূত করে তিনি এখানেই তাঁর বিখ্যাত শিবানন্দ লহরী স্তোত্র এবং শ্রী ভ্রমরাম্বিকা অস্টক স্তোত্র  রচনা করেন। 

পরবর্তীকালে চালুক্য ও  রাষ্ট্রকূট বংশের আমলে শ্রীশৈলম পর্বতে ওঠার চারটি দ্বারের কথা জানা যায় আজও সেই চারটি রাস্তায় শ্রীশৈলম পর্বতে ওঠার প্রধান পথ -  পূর্বদিকে ত্রিপুরান্তক,  দক্ষিণে পুষ্পগিরি, পশ্চিমে আলামপুরা এবং উত্তরে উমা মহেশ্বর। এরপর এখানে শাসন করেন কাকোতিয় বংশের রাজারা । বিজয়নগর রাজ্যের রাজা হরিহর রায় সম্ভবত বর্তমান  মন্দিরের নির্মাণ করান। বিজয় নগরের বিখ্যাত রাজা শ্রীকৃষ্ণ দেব রায় ১৪৩৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে আসেন এবং মন্দির প্রবেশের প্রধান রাস্তার দু'পাশে দুটি সুন্দর মণ্ডপ তৈরি করান।  এখনও সেই মণ্ডপ গুলি রয়েছে। এছাড়াও তিনি মন্দিরে সোনার তৈরি নন্দীর ও ভৃঙ্গীর মূর্তি,  সোনার শৃঙ্গা,  রুপার তৈরি মল্লিকার্জুনের বেদী জ্যোতির্লিঙ্গের উত্তর দিকে প্রতিষ্ঠা করেন । মন্দিরের অন্যপাশে পাথরের একটি মণ্ডপে রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের মূর্তিও  ওই সময়ের তৈরি। 

সেই সময় শিব ভক্তেরা খুবই উগ্র প্রকৃতির ছিলেন এবং নানা তান্ত্রিক ক্রিয়া কলাপ ও নরবলি এই স্থানে চলত। বিজয়নগরের পতনের পর মুসলমান আমলে এই তীর্থ কিছুটা হীনদশা প্রাপ্ত হয়। তবে ১৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ছত্রপতি শিবাজী এই তীর্থ পরিদর্শনে আসেন এবং জ্যোতির্লিঙ্গ দেবীর পূজা চালু করার ব্যবস্থা করেন মন্দিরের প্রধান প্রাচীরের উত্তর দ্বারটি তিনিই তৈরি করে দেন। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ আমলের শুরুতে হায়দ্রাবাদের নিজাম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে কুড়ুনুল জেলা তুলে দেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মেজর মনরো তখন  এই মন্দিরের ভার  এখানকার বিখ্যাত শৈব মঠ পুষ্পগিরি মঠের হাতে তুলে দেন । আজ পর্যন্ত ওই  মঠই জ্যোতির্লিঙ্গ ও দেবীর সেবা পরিচালনা করে আসছে । তবে আয়-ব্যয় দেখাশোনার জন্য সরকারি পরিচালনায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে।  ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে থেকেই সরকারি পরিচালনা আরম্ভ হয়। 

আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দাক্ষিণাত্য অভিযানের সময় তরবারি দিয়ে আঘাত করেছিলেন সেই জ্যোতির্লিঙ্গকে। বিকৃত সেই জ্যোতির্লিঙ্গ তখন থেকে বিকৃতাক্ষ নামে পরিচিত । দেবী ভ্রামরী বা ভ্রমরাম্বার  ভৈরব বিকৃতাক্ষ ।শিবরাত্রির সময় এখানে বিশাল মেলা বসে।

পুরণাদিতে এই মল্লিকার্জুন শিবলিঙ্গ এবং তীর্থক্ষেত্রের অতীব মহিমা বর্ণনা আছে। এই শিব লিঙ্গের দর্শন, পূজা ও অর্চনা করলে ভক্ত গনের সকল সাত্বিক মনোকামনা পূর্ণ হয়। দৈহিক, দৈবিক , এবং ভৌতিক সর্বপ্রকার বাধাবিঘ্ন থেকে ভক্তগণ মুক্ত হন। 

সর্বসুগন্ধিসুলেপিত লিঙ্গং

বুদ্ধিবিবর্ধিতকারণ লিঙ্গং

সিদ্ধসুরাসুরবন্দিত লিঙ্গং

তৎ প্রণমামি সদা শিবলিঙ্গং ।

তথ্য ঋণ:

১. শিব ঠাকুরের বাড়ি: সোমনাথ: দেব সাহিত্য কুটির

২. ওম নমঃ শিবায়: গীতা প্রেস , গোরক্ষপুর।

৩. দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ : স্বামী অচ্যুতানন্দ:  উদ্বোধন কার্যালয়।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom