Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

ধর্ম, Religion ও মযহাব

Image credits: Detechter.com


©  শ্রী সূর্য শেখর হালদার 

সাধারণ অর্থে আমরা ইংরেজি শব্দ Religion, আরবী শব্দ মযহাব আর সংস্কৃত শব্দ  ধর্মকে এক মনে করি। আসুন দেখা যাক এই শব্দ গুলির উৎপত্তি গত এবং অন্তর্নিহিত অর্থ কিরূপ। 


  ইংরেজি শব্দের Religion-এর অর্থ a system based on belief in God or gods.

অর্থাৎ ঈশ্বরের উপর বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি কোন সংস্থা । আব্রাহামিক রেলিজিয়ন যেমন ইসলাম বা ক্রিশ্চিয়ানিটি হল রেলিজিয়ন। এদের বিশ্বাস একই রকম। নিয়ম ,কানুন, অনুশাসনও সব এক এবং কঠোর।


মযহাব এর অর্থ → [মজ্‌হাব্‌, মযহাব্‌, মজ্‌হব্‌] (বিশেষ্য) ইসলামীয় চর্যাপদ্ধতি; বিশেষ মত ও পথ অবলম্বী দল; সম্প্রদায়; সঙ্ঘ; দল (মজহাব গঠন দাওরে ছাড়িয়া সব এক হও মিলিয়া মিশিয়া-ইসমাইল হোসেন শিরাজী)। মজহাবি (বিশেষণ) মজহাব-সংক্রান্ত ।


অন্যদিকে ধর্ম শব্দের অর্থ ধারণ করা। ধর্ম শব্দটি আসে সংস্কৃত √ধৃ হতে। এই √ধৃ -এর অর্থ 'ধারণ'। 'একজন ব্যক্তি তার জীবনে তার যত প্রকার বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে সব মিলিয়ে হয় তার ধর্ম।' স্বামীজিও বলেছেন যা ধারণ করে তাই হলো ধর্ম। সনাতন ধর্ম কথাটির অর্থ হয় যা সনাতনকে ধারণ করে। সনাতন বলতে বোঝায় ঈশ্বরকে। সনাতন অর্থ যার আদি , অন্ত কিছুই নেই। একমাত্র ঈশ্বর হলেন সনাতন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে  সনাতন ধর্ম শুধু বিশ্বাসের উপর আধারিত নয়: এটি কোন একটি বিশেষ  পন্থা বা দল নয়। বিশ্বাস সনাতন ধর্মের সামান্য একটি অংশ মাত্র। আর সনাতন ধর্মের মধ্যে অনেক সম্প্রদায় বা সংঘ আছে যাদের পথ আলাদা কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকে ঈশ্বরকে ধারণ করার চেষ্টা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, পরম্পরাগত শিক্ষা, গুণ, আচার ব্যবহার ইত্যাদি এই সবই তাঁদের ধর্ম।যেভাবে আগুনের ধর্ম দহন করা, জলের ধর্ম শীতলতা, পশুর ধর্ম পশুত্ব, তেমনি মানুষের ধর্ম হয় মনুষত্ব। 


মনুস্মৃতি গ্রন্থ ( অন্যতম স্মৃতি গ্রন্থ ও শাস্ত্র)  অনুসারে মনুষ্য ধর্ম বিবেচিত হবে দশটি গুণ এর মাধ্যমে, যে দশটি গুণের উপস্থিতি তাদেরকে মনুষ্য প্রমাণ করবে। যথা-


 ধৃতিঃ ক্ষমা দম অস্তেয় শৌচং ইন্দ্রনিগৃহ।

ধীঃ বিদ্যা সত্যম্ অক্রোধ দশকম ধর্মস্য লক্ষণম্।।



এই শ্লোক অনুযায়ী, একজন মানুষের নিম্নলিখিত গুন গুলি থাকলে, সে ধার্মিক হবে। গুন গুলি হল: 

১. ধৈর্য

২.ক্ষমা

৩.সংযত ভাব 

৪.চুরি না করা

৫. পরিষ্কার পরিছন্নতা

৬. ইন্দ্রিয়কে সংযত রাখা

৭. বুদ্ধি

৮.বিদ্যা

৯.সততা 

১০.রাগ বা ক্রোধ না করা। 


যে কোন সনাতনী ধার্মিক নিজের মধ্যে এই গুণ গুলির বিকাশ ঘটাতে চেষ্টা করবে। 

মনে রাখতে হবে আমরা যারা সনাতন ধর্মালম্বী তারা বিভিন্ন নিয়ম পালন করি। অর্থাৎ সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মবিশ্বাস কিন্তু সবক্ষেত্রে একরকম নয়। সারাবিশ্বে ক্রিশ্চান ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশাসন একই রকম। কিন্তু সনাতন ধর্মালম্বীদের ক্ষেত্রে কেউ দুর্গাপূজা করেন, কেউ মহাদেবের, কেউবা মুরুগান বা তিরুপতি র, আবার কেউ বজরং বলি। কেউ মঙ্গলবার পালন করেন কেউ আবার সোমবার কেউ আবার বৃহস্পতিবার বা শনিবার, এমনকি রবিবার সূর্যের বার হিসেবে অনেকে পালন করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ধরনের ব্রত বা পূজা পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসের মধ্যে বিভিন্নতা থাকলেও সনাতনধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এই গুণ গুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটবেই। 



আসলে সনাতন ধর্মের উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে দেবত্বের বিকাশ ঘটানো। এই গুনগুলো মানুষের মধ্যে দেবত্বের বিকাশ ঘটায়। ধর্ম মানে কিছু বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়ে বোধবুদ্ধিহীন ভাবে অন্য ধর্মালম্বী মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া বা তাদের দেশ অধিকার করা বা তাদের সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করা বোঝায় না। এছাড়াও মনে রাখা প্রয়োজন সনাতন ধর্মের কোন স্রষ্টা নেই : মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকেই এই ধর্ম আছে। আর এই ধর্ম কোন দল করতে বা কোন বিশেষ সাম্প্রদায়িক বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরতে নয় : বরং মানুষ হতে শেখায়। তাই সনাতন ধর্মই আজ বিশ্বায়নের যুগে আধুনিকতম। 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom