Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

স্বাধীনতা সংগ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ: জঙ্গল সত্যাগ্রহ ও হেডগেওয়ার



© শ্রী সূর্য শেখর হালদার

12 ই মার্চ 1930 সাল। লবণ সত্যাগ্রহের জন্য মহাত্মা গান্ধী আমেদাবাদ থেকে রওনা হন। এপ্রিলের 5 তারিখে তিনি দণ্ডিতে পৌঁছান এবং সরকারি আইন ভেঙে তিনি সেখান থেকে লবণ তোলেন। এই আইন ভাঙার জন্য সারাদেশে আন্দোলনের ঢেউ দেখা যায়। যেখানে লবণ আইন ভাঙার জন্য সমুদ্র ছিল না সেখানে অন্যান্য আইন ভাঙার শুরু হয় । মধ্যপ্রদেশে বাপুজী আণে জঙ্গল সত্যাগ্রহ আরম্ভ করলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজনীয় ডাক্তারজী(শ্রী কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারজী) তাতে যোগ দিলেন। 


সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণের পূর্বে ডাক্তারজী সকল স্বয়ংসেবক দের একত্রিত করলেন। তিনি সত্যাগ্রহের কারণ, কেন তিনি সত্যাগ্রহ অংশ নিচ্ছেন, সমগ্র দেশের পরিস্থিতি এবং কিভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যায় ইত্যাদি বিষয় স্বয়ংসেবকদের সামনে তুলে ধরলেন। যোজনা অনুসারে 14 জুলাই 1930 খ্রিস্টাব্দে ডাক্তারজী নিজের দলের সঙ্গে নাগপুর ছাড়লেন। তাঁদের বিদায় দেবার জন্য শত শত নাগরিক নাগপুর স্টেশনে উপস্থিত হন, আর গাড়ি ছাড়া মাত্র ' *ভারত মাতা কি জয়'* ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়। 


প্রত্যেক স্টেশনে ডাক্তারদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লোক আসতে থাকে। সংঘের অনেক স্বয়ংসেবক ডাক্তারজীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। মূর্তিজাপুর স্টেশনে কিছু স্বয়ংসেবক ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করতে এলে ডাক্তারজী তাঁদের তাঁর সঙ্গে যাবার আগ্রহ করেন। তাঁরা ডাক্তারজীর প্রতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন , যে বাড়ির কথা না ভেবেই তাঁরা ডাক্তারজীর সঙ্গে রওনা দিয়ে দেন। 


22 জুলাই 1930। ইয়তমালের নিকটস্থ জঙ্গলে নিজের দল নিয়ে ডাক্তারজী সত্যাগ্রহ আরম্ভ করলেন। ইংরেজ পুলিশ গ্রেফতার করল তাঁকে এবং তাঁর সহকারীদের। নয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড হলো ডাক্তারজীর। তাঁকে আকোলা জেলে পাঠানো হল। তিনি আকোলা জেলের পরিবেশ একেবারে পাল্টে দিলেন। তাঁর মধুর ব্যবহার ও মিষ্টি কথায় জেলের ছোট-বড় সকলে তাঁর বন্ধু হয়ে গেলেন। বিদর্ভের অনেক স্থান থেকে সংঘের স্বয়ংসেবকরাও সেখানে এসেছিলেন। ডাক্তারজী সেখানে আছেন দেখে সকলেই খুব আনন্দিত হলেন। এনাদের মধ্যে ছিলেন ডাক্তার ঠোসর , আপ্পাজী যোশী, দাদাসাহেব সোমন প্রমুখ। এনাদের উপস্থিতিতে আকোলা জেল সংঘের একটি শিবিরে পরিণত হয়। ডাক্তারজী সেখানে রোজ রোজ নতুন লোকের সঙ্গে পরিচয় শুরু করে দেন। তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংঘের ভাবধারা ওনাদেরকে বোঝাতে থাকেন। সেখানেই তিনি বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে প্রতিজ্ঞার  মাধ্যমে স্বয়ংসেবকও করেন। ডাক্তারজীর সঙ্গে একসাথে থাকতে পেয়ে অনেকেই জীবনের নতুন দিশা পান, আর এটাও বুঝতে পারেন যে যে তিনি অন্তরে ও বাহিরে কতটা নির্মল এবং প্রেমময় ছিলেন। 


14 ফেব্রুয়ারি 1931 তিনি জেল থেকে মুক্তি পান এবং সমস্ত শক্তি দিয়ে সংঘের কাজে লেগে পড়েন। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে সময় ডাক্তারজী আইন অমান্য আন্দোলন করে জেলে গিয়েছিলেন, সেই সময় সংঘের সরসঞ্চালকের দায়িত্ত্ব পালন করেন শ্রী লক্ষণ বাসুদেব পরাঞ্জপে । এই ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক এবং অন্যান্য স্বয়ংসেবকরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।



Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom