Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

প্রশ্নোত্তরে প্রাচীন ভারতের ঋষি পরিচয়: প্রথম পর্ব



© শ্রী সূর্য শেখর হালদার


১. ইনি ভৃগু ঋষির বংশে জন্মগ্রহণকারী এক প্রাচীন ঋষি। মহাভারতেও তাঁর উল্লেখ আছে।  ভাগবত পুরাণ অনুসারে, সমগ্র বিশ্ব জলময় হলে ইনি বিষ্ণুর স্তব করে তাকে উদ্ধার করার আবেদন জানান। বিষ্ণু পাতায় ভাসমান একটি বালকের বেশ ধরে এসে তাকে বলেন যে তিনিই সময় ও মৃত্যু। বালক  ঋষিকে অনুরোধ করেন যে তিনি যেন নিজেকে ক্রমবর্ধমান জলরাশি থেকে উদ্ধার করতে বালকের মুখে প্রবেশ করেন। বালকের উদরে প্রবেশ করে সেখানে এই ঋষি বিশ্বচরাচর, সপ্তলোক ও সপ্ত মহাসমুদ্রের উপস্থিতি দেখতে পান। উদভ্রান্ত হয়ে ঋষি বিষ্ণুর স্তব করতে থাকেন ও  বালকের মুখের বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিষ্ণু তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হয়ে তাকে বর দেন। এই ঋষির নাম কি ? 


উ: ঋষি মার্কন্ড। 


২. ইনি এক পরম বিষ্ণু ভক্ত ঋষি। এনার আগের জন্মে নাম ছিল নন্দ। ইনি সেই জন্মে সাধু সঙ্গে এবং সাধুদের সেবা করে পরম জ্ঞান লাভ করেন। মহা প্রলয়ের পর তিনি ব্রহ্মার মানস পুত্র রূপে আবির্ভূত হন এবং বিষ্ণুর পরম ভক্ত রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়াও ইনি ইচ্ছামত অবাধ যাতায়াত , সঙ্গীত , পরামর্শ দানে বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন। বীণা বাদ্যযন্ত্র এনার সৃষ্টি।  রামায়ণ, মহাভারত - দুই স্মৃতি গ্রন্থেই এনার উল্লেখ আছে। ইনিই প্রথম মহর্ষি বাল্মীকিকে রামকথা শোনান। এনার নামে একটি পুরাণ ও সংহিতা গ্রন্থ আছে। বর্তমান বিশ্বে ইনি সাংবাদিকতার জনক রূপে উল্লিখিত হন। এই ঋষির নাম কি ? 


উ: দেবর্ষি নারদ। 




৩. ইনি একজন মহর্ষি। জন্মগতভাবে ইনি ক্ষত্রিয় এবং রাজপুত্র।  কিন্তু তপস্যাবলে  তিনি ব্রহ্মত্ব প্রাপ্ত হন। ইনি ঋগ্বেদের একজন মন্ত্রদ্রষ্টা । ঋগ্বেদের 

 তৃতীয় মণ্ডলের সমস্ত মন্ত্রের এমনকি সমগ্র বেদের সার যে গায়ত্রী মন্ত্র , সেই গায়ত্রী মন্ত্রের দ্রষ্টা হলেন এই ঋষি। রামায়ণের বালকাণ্ডে এনাকে দেখা যায় বালক রাম ও লক্ষ্মণের গুরু রূপে। তিনি রামকে শাস্ত্র ও শস্ত্রের শিক্ষা দেন। রাম বহু দিব্যাস্ত্র এনার থেকে লাভ করেন যা পরবর্তীতে তাঁর কাজে লাগে। কুশ বংশ জাত বলে এনার আরেক নাম কৌশিক। এই বিখ্যাত ঋষির নাম কি ? 


উ: মহর্ষি বিশ্বামিত্র। 


৪. এই ঋষি সপ্তর্ষির মধ্যে একজন। ব্রহ্মার দশ মানস পুত্রের একজন ও রামায়ণের অন্যতম চরিত্র । শ্রীরাম যে বংশে জন্মগ্রহণ করেন, সেই বংশের কুলগুরু ছিলেন এই ঋষি। ইনি ঋগ্বেদের একজন মন্ত্রদ্রষ্টা :  ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলের মন্ত্র গুলি ইনি রচনা করেন। ইনি ব্রহ্মার মানস পুত্র এবং সপ্তর্ষিদের মধ্যে একজন।  কামধেনু নামক গাভীর মালিক ছিলেন ইনি। এনার সঙ্গে আরেক বৈদিক মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি বিশ্বামিত্রের যুদ্ধের বর্ণনা বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থে পাওয়া যায়।সেই যুদ্ধে তাঁর শত পুত্রের মৃত্যু হয়।  পরাশর মুনি ছিলেন এনার পৌত্র। এই ঋষির নাম কি ? 


উ: মহর্ষি বশিষ্ঠ। 



৫. ইনি কর্দম ঋষির কন্যা ও একজন বিশিষ্ট ঋষিপত্নী । এনার স্বামী বৈদিক মন্ত্রের দ্রষ্টা। বৈদিক ও পুরাণ সাহিত্যে তিনি সতীত্ব, বিবাহিত আনন্দ এবং স্ত্রীর ভক্তির পরিচয় হিসাবে বিবেচিত হন। সংস্কৃত ও হিন্দিতে পুরাতন পরবর্তী মহাকাব্যগুলিতে তাকে "পবিত্র ও শ্রদ্ধাশীল" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে । এনার নামে দুইটি নক্ষত্র আছে এবং সনাতন সংস্কৃতিতে এনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বিশ্বাস, অনুশীলন এবং ঐতিহ্য রয়েছে । এনার নাম কি ? 


উ: দেবী অরুন্ধতী। 


৬. আজকের দিনে অন্য মানুষের প্রয়োজনে অঙ্গদানের নমুনা আমরা জানতে পারি। সাধারণত মৃত মানুষের গুরুত্ত্বপূর্ন অঙ্গ পরিবারের সম্মতিতে দান করা হয় অন্য কোন মানুষকে যার সেই অঙ্গের প্রয়োজন। কিন্তু এমন একজন ভারতীয় ঋষি ছিলেন যিনি প্রয়োজনে নিজ দেহ ত্যাগ করে তাঁর অস্থি দান করেছিলেন বৃত্তাসুর নামক এক অসুরকে বধ করার লক্ষ্যে।  বৃত্তাসুর যখন স্বর্গ দখল করার চেষ্টা করছেন এবং দেবগণ বৃত্তাসুরের ভয়ে আতঙ্কিত, তখন ভগবান বিষ্ণু বলেন এই ঋষির অস্থি দিয়ে তৈরি অস্ত্রের মাধ্যমেই বৃত্তাসুর বধ সম্ভব। দেবতারা তখন সেই ঋষির কাছে এসে নতমস্তকে তাঁর অস্থি প্রার্থনা করেন এবং এই মহাত্যাগী ঋষি জগৎ কল্যাণার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তাঁর অস্থি তুলে দেন দেবতাদের হাতে যা দিয়ে বৃত্তাসুর বধ হয়।  কে এই মহান ঋষি ? 


উ: মহর্ষি দধীচি। 


৭. মহাভারতের কথা অনুযায়ী গন্ধর্ব রাজ চিত্ররথ অর্জুনকে রাজ্য পালনের জন্য এক পুরোহিত ব্রাহ্মণকে নিয়োগ করবার পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী এনার আশ্রমে গিয়ে পাণ্ডবরা এনাকে তাঁদের পুরোহিত পদে বরণ করেন। ইনি পাণ্ডবদের সঙ্গে দ্বাদশ বর্ষ বনবাস অতিবাহিত করেন ; যুধিষ্ঠির ও দ্রৌপদীর বিবাহ দেন ; পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসে সঙ্গী না হলেও রাজগৃহে রাজার প্রিয় হয়ে কিভাবে থাকতে হবে, সেই বিষয়ে যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দেন। মহারাজ যুধিষ্ঠির রাজ্য লাভের পর ধর্মীয় কাজের দায়িত্ব এনাকেই দেন এবং রাজসূয় যজ্ঞে তাঁকেই হোতা করেন। এই পুরোহিতের নাম কি ? 


উ: মহর্ষি ধৌম্য। 


৮. ইনি ভৃগু বংশজাত একজন মহতপা, পরিব্রাজক ঋষি যিনি বিবাহে আগ্রহী ছিলেন না । কঠিন তপস্যা করেই জীবন অতিবাহিত করতেন তিনি। কথিত আছে তিনি শুধুই বাতাস খেয়ে জীবনধারণ করতেন। তিনি যাযাবর নামক ঋষি বংশীয় ছিলেন। পূর্বপুরুষদের অনুরোধে বংশ রক্ষার্থে তিনি বিবাহে সম্মত হন। তাঁর সংকল্প ছিল যে তিনি তাঁরই নামের কোন  নারীকে বিবাহ করবেন। অবশেষে এক নাগকন্যার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় । সেই নাগকন্যা আর তাঁর নাম ছিল সত্যই এক । এনারা কিছুদিন বিবাহিত জীবন কাটান এবং স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন পত্নীর এক ছোট ভুলের কারণে পত্নীকে রেখে এই ঋষি চলে যান। এই ঋষি ও তাঁর পত্নীর (দুইজনের নামই এক ) নাম কি ? 


উ: মহর্ষি জরৎকারু। 


৯. । সনাতন যুগ গণনা অনুযায়ী ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার বৎসরে এক মন্বন্তর। একেকটি মন্বন্তর একেকজন মনুর রাজত্বকাল। মনুরা প্রত্যেকেই একেকজন ঋষি। সনাতন যুগ গণনা অনুযায়ী চোদ্দো মন্বন্তরে এক কল্প হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রতি কল্পে চোদ্দো জন ঋষি মনুর আবির্ভাব হয়ে থাকে। বর্তমানে ছয় মনুর রাজত্বকাল শেষ হয়ে সপ্তম মনুর রাজত্বকাল চলছে। এই সপ্তম মনু হলেন শ্রীরাম এর সূর্যবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি সূর্যের পুত্র । তাই তাঁর নামও সূর্যের নামে। সপ্তম মনুর পুরো নাম কি ? 


উ: বৈবস্বত মনু। সূর্যের আরেক নাম বিবস্বান।



১০. ইনি এক পতিব্রতা ঋষি পত্নী। বৈবস্বত মনুর কন্যা । তাঁর বিবাহ হয় এমন একজন ঋষির সঙ্গে যিনি তাঁকে শর্ত দেন যে এক সন্তানের জন্মের পর তিনি (অর্থাৎ ঋষি) আবার তপস্যায় মগ্ন হবেন। কিন্তু সেই ঋষি তাঁর পত্নীর সেবায় প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বর প্রার্থনা করতে বলেন। তখন বুদ্ধিমতী সেই নারী ঋষির কাছে আরো কিছুদিন সংসার করার বর চেয়ে নেন। এরপর সেই নারী আর ঋষির নয় কন্যা ও এক পুত্রের জন্ম হয়। পুত্র পরবর্তী কালে সাংখ্য দর্শন রচনা করে অমর হন। এই নারী কে ?


উ: দেবী দেবাহুতি।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom