Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

নোয়াখালী হিন্দু গনহত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি

Image: A Hindu family sitting on the ruins of their house in Mohakhali, 1946


© শ্রী রবীন্দ্রনাথ দত্ত

১০ অক্টোবর, শুক্রবার। ১৯৪৬ এর ঐদিন মুসলিম লীগ পাকিস্তান কায়েম করার জন্য নোয়াখালী এবং ত্রিপুরা জেলায় যে বর্বর অত্যাচার চালায়, তার কিছু বিবরণ নিচে দেওয়া হল।


কলকাতায় প্রথম তিন দিনে কুড়ি হাজার হিন্দু হত্যার পর,হিন্দুরা যখন গোপাল মুখার্জির নেতৃত্বে শিখ এবং বিহারী গোয়ালাদের সহযোগী হয়ে রুখে দাঁড়ালো,তখন মুসলমানেরা রণেভঙ্গ দিলো এবং নোয়াখালী জেলা কে বেছে নিল। সেখানে হিন্দুর সংখ্যা ১৮ শতাংশ মুসলমানের সংখ্যা ৮২ শতাংশ।


১০অক্টোবর ১৯৪৬ লক্ষীপূজার ওই রাত্রে মুসলিম লীগ আরম্ভ করল হিন্দু হত্যা,নারী ধর্ষণ,লুটতরাজ,অগ্নিসংযোগ,বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ ইত্যাদি তারা প্রথমে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়দের ওপর অত্যাচার আরম্ভ করল। প্রাণের ভয় দেখিয়ে এক লক্ষ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করা হল।তাদের মাথায় টুপি, পরনে লুঙ্গি, গোমাংস ভক্ষণে বাধ্য করা হলো। মহিলাদেরকে চিৎ করে মাটিতে শুইয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেওয়া হল। বিবাহিতাদের হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়া হল।বুকের সন্তানকে কেড়ে নিয়ে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিল। ৫-৬বছরের শিশুদের খড়ের গাদার উপর উঠিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঐ শিশুরা জলন্ত আগুনের থেকে নীচে গড়িয়ে পড়লে তাদের পা ধরে  পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল। প্রাণের ভয়ে মানুষ পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল। তাদেরকে কোঁচ, টেটা, বল্লম দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল। বাড়ির সব লুঠ করে মহিলাদের গণধর্ষণ আরম্ভ করলো। বাড়ির পুরুষদের তার দিয়ে হাত পা বেঁধে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে বাঁশ দিয়ে চেপে ধরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার উৎসব!


১১-১০-১৯৪৬ তারা হিন্দু মহাসভার সভাপতি রায়সাহেব রাজেন্দ্রলাল রায়ের বাড়ি আক্রমণ করলো। কয়েকহাজার মুসলমান দা,বর্ষা,কুড়োল কাটারী নিয়ে আল্লাহুআকবর ধ্বনি দিতে থাকে। রাজেনবাবু একটা একতালা দালান বাড়িতে থাকতেন।দাঙ্গাবাজরা কাঠের দরজায় আগুন ধরিয়ে দিলে পরিবারের সকল সদস্য ছাদে গিয়ে উঠলেন। সেখান থেকে সকলকে নামিয়ে নিয়ে কেবল রাজেনবাবুকে নারকেল বাগান এর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তাকে হত্যা করার জন্য,ওই সময় রাজেনবাবুর ছেলে গোপাল বুঝতে পারে ও বাবা বাবা বলে বাবার কাছে যখন যাচ্ছিল, এক দুর্বৃত্ত বল্লম দিয়ে তাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে হত্যা করল। রাজেনবাবুকে অকথ্য অত্যাচার করে তার মুন্ডচ্ছেদ করে, কিছুক্ষণ তার কাটা মুন্ড  দিয়ে ফুটবল খেলে, সেই কাটা মুণ্ড একটা রুপার থালায় করে গোলাম সারওয়ার কে উপহার দেওয়া হল।এরপর রাজেনবাবুর পরিবারের ২২ সদস্য কে একটা ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে, মহিলাদের অকথ্য অত্যাচার করে সকলকে উলঙ্গ করে তাদের পড়া ধুতি ও শাড়ি দিয়ে হাত পা বেঁধে,দা,বল্লম,ছুরি দিয়ে অনবরত কুপিয়ে চলছিল দুর্বৃত্তরা। সেকি বীভৎস দৃশ্য!

 চিৎকার,আর্তনাদ,গোঙানি....একেবারে মুণ্ডচ্ছেদ করে না করে কষ্ট দিয়ে মারাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। এরপর লুঠেরারা লুটের মাল এবং যুবতী মেয়েদের নিয়ে চলে গেল।এখানে রাজেনবাবু স্ত্রী বাণী রানী চৌধুরী ২৫ শে নভেম্বর বাংলার কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীকে যে পত্র লেখেন তার কিছু অংশ তুলে দেওয়া হল।এই পত্রের কপি আমার সংগ্রহশালায় আছে।


.....গত অক্টোবরে উৎশৃংখল দুর্বৃত্তরা আমার বক্ষ হইতে আমার কুমারী কন্যা নমিতা রায় চৌধুরীকে বলপূর্বক ছিনাইয়া লইয়া গিয়াছে।আমার কন্যাকে বলপূর্বক অপহরণ করিবার কালে আমি কপালে গুরুতর আঘাত পাই।ওই সময় আক্রমণকারী দুর্বৃত্তরা যে উচ্ছৃংখলতার পরিচয় দিয়েছিল তা বর্ণনা করা আমার সাধ্যাতীত।উচ্ছৃংখল জনতার আক্রমণের ফলে রায় সাহেব রাজেন্দ্রলাল রায়ের জীবনান্ত হয়।......


স্বহৃদয় পাঠক-পাঠিকা একবার চিন্তা করে দেখুন পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য বর্বর মুসলমানরা কি ধরনের বর্বরতা করেছিল!


১১-১-১৯৪৭ গান্ধীজী স্বদলবলে করপাড়া গ্রামে রাজেনবাবুর বাড়িতে যান। তখন সেই বাড়িতে আমার পিতা এবং আমার সেজো ভাই জগদিন্দ্র সেই বাড়িতে গিয়ে ওই বধ্যভূমিতে দেখতে পান ২২ জন লোকের রক্ত মেঝেতে শুকিয়ে দেড় ইঞ্চি পুরু আমসত্ত্বের মত হয়ে আছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত দেওয়াল এবং ঘরের ছাদে জমাট হয়ে আছে।


এখানে মুসলিম লীগ নেতা ফিরোজ খান নুন এর একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য। জুলাই ৪৬এ তিনি বলেছিলেন.... ব্রিটেন যদি আমাদেরকে হিন্দুরাজত্বের অধীন করে দিয়ে যায় তো আমরা ব্রিটেনকে জানিয়ে রাখছি।এ দেশের মুসলমানরা এমন ধ্বংসলীলা অনুষ্ঠান করবেন যা চেঙ্গিস খানের কীর্তিকে নিষ্প্রভ করে দেবে। ফিরোজ খান নুনের হুঙ্কারের নগ্নরূপ হল ১৬ই আগস্ট কলকাতার প্রত্যক্ষ সংগ্রাম এবং অক্টোবরে নোয়াখালীতে হিন্দু নিধন।


ঐইদিনই অপরাহ্ণে ১১-১-১৯৪৭ গান্ধীজি নিকটবর্তী গ্রাম লামচরে স্বদলবলে উপস্থিত হলেন।লামচর গ্রামের হাই স্কুলের মাঠে প্রার্থনা সভায় ন্যূনতম দুই হাজার লোক উপস্থিত হল। সভাস্থলে আসন গ্রহণের পূর্বে ২১ জন নারী পুরুষের অর্ধগলিত দেহ, কারোবা কঙ্কাল মাত্র আজিমপুর মাঠের জলাভূমিতে সেই দিনই দিবাভাগে উদ্ধার করিয়া স্কুল প্রাঙ্গণে রক্ষিত হইয়াছিল।গান্ধীজির নির্দেশে ডাঃ সুশীল আনোয়ার এম.বি. শবগুলি পরীক্ষা করেন। তাহার স্বহস্তে লিখিত রিপোর্ট খানি বিশিষ্টজননায়ক লামচর গ্রাম নিবাসী  মনোরঞ্জন চৌধুরী মহাশয়ে নিকট রক্ষিত ছিল এই রিপোর্টটি। (তার পরিবারের সদস্যদের নিকট এখনো আছে কিনা জানি না) স্থানীয় জনসাধারণ এই মৃতদেহগুলি রায় চৌধুরীর স্ত্রী পুরুষের মৃতদেহ বলে শনাক্ত করেন। গভীর রাত্রিতে প্রার্থনা সভার পর লামচর চৌধুরীবাড়ী বটবৃক্ষের পূর্ব দিকের খোলা জায়গায় হিন্দু শবদেহগুলি সৎকার করা হয়।


নারায়ণ পুরের জমিদার সুরেন্দ্রনাথ কাচারিবাড়ি আক্রমণ- কাশেমের ফৌজ মালাউনের রক্ত চাই ধ্বনি দিতে দিতে  সুরেন্দ্রনাথ বাবুর কাছারিবাড়ি আক্রমন করল।ঐ বাড়িতে সুরেন্দ্রনাথ বাবু তার ভাই নগেন্দ্রনাথ বসু এবং কতিপয় কর্মচারী বাস করছিলেন। তার কাছে একটি বন্দুক এবং কিছু কার্তুজ ছিল, আক্রান্ত হয়ে তিনি বন্দুক হাতে আক্রমণ মোকাবেলা করেন।কার্তুজ শেষ হইলে মুসলমানরা দূর থেকে লক্ষ্য করে মাছ ধরার শানিত লৌহ শলাকা যুক্ত টেটা ছুরীতে,তিনি ক্ষতবিক্ষত দেহে ধরাশায়ী হইলে আততায়ীরা তাকে অকথ্য অত্যাচার করিয়া অর্ধমৃত অবস্থায় জলন্ত অনলে নিক্ষেপ করিয়া যতক্ষণ না তাহার প্রাণ বায়ু নিঃশেষ ছিল।ততক্ষণ বাঁশ দিয়া চাপিয়া ধরিয়া উলটপালট করিয়া সুরেন্দ্রবাবুকে হত্যা করল।তার ভ্রাতা এবং হিন্দু কর্মচারীদের কেউ নির্মমভাবে বর্বর মুসলমানরা হত্যা করল।


চিত্ত দত্তরায়ের আত্মাহুতি- শায়েস্তানগর এর চিত্ত দত্তরায়ের বাড়ি কয়েক হাজার মুসলমান কর্তৃক  আক্রান্ত হলে তিনি নিজের বৃদ্ধ মাতা, সন্তানদেরকে নিজের বন্দুকের গুলিতে হত্যা করিয়া নিজেও গুলিতে আত্মহত্যা করেন। গুলি না থাকায় তাহার স্ত্রী এবং একটি শিশু সন্তান রক্ষা পায়।


গোপাইবাগের দাসদের বাড়ি- কয়েক হাজার মুসলমান আক্রমণ করে ১৯ জন পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে,অর্ধমৃত পুরুষদের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয় মহিলাদের ওপর চলে পাশবিক অত্যাচার নোয়াখালি চৌধুরীবাড়ী কয়েক হাজার সশস্ত্র মুসলমান বাড়ি আক্রমণ করে এবং শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যা করে মহিলাদের ওপর বর্বরোচিত পাশবিক অত্যাচার চালায়


কতিপয় যুবতীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঐ বাড়িতে বর্বর মুসলমানরা মাটিতে গর্ত করে মৃতদেহগুলি কে গর্তে ফেলে। কিছু জীবন্ত মানুষকে ওই গর্তে ফেলে মাটিচাপা দেয়।অর্থাৎ কিছু লোকের জীবন্ত সমাধি হয়।ওই বাড়ির প্রভুভক্ত কুকুরটি কবরের ওপর পড়ে অনাহারে দিন যাপন করছিল।গান্ধীজী ও তার সঙ্গীরা পরিদর্শনে গেলেন কুকুরটির নিকট আরেকবার গান্ধীজীর পায়ের নিকট গড়াগড়ি খেতে আরম্ভ করে কেউ এর তাৎপর্য বুঝতে পারে নাই।তারপরও কুকুরটি হিন্দু মহাসভা নেতা নির্মল চন্দ্র চ্যাটার্জির(সিপিএম নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জির পিতা)ধুতি কামড়ে ধরে তাকে টানতে টানতে গর্তে নিকট নিয়ে গেলে তিনি স্থানীয় লোকদের থেকে জানতে পারেন ওই গর্তে মৃতদেহগুলি এবং কিছু হিন্দুকে জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়। পরে ঐ গর্ত উন্মোচন করে মৃতদেহগুলি গান্ধীজী এবং তার সঙ্গীরা দেখতে পান।নির্মল চ্যাটার্জি ওই প্রভুভক্ত কুকুর টিকে একটি কাঠের তৈরি খাঁচায় বন্দী করে ট্রেনযোগে কলকাতায় আনেন এবং তার বাড়িতে অতি যত্ন সহকারে আমৃত্যু প্রতিপালন করেন।


গোবিন্দপুর গ্রামের পৈশাচিক কান্ড যশোদা পাল এবং ভারত ভূঁইয়া বাড়িতে পুরুষদের হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে বাঁশ দিয়ে চেপে ধরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।এবং সদ্য স্বামী এবং পিতৃহারা মহিলাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার,তাদেরকে মাটিতে চিৎ করে ফেলে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেওয়া হয়।


নন্দীগ্রামের ঘটনা- ওই গ্রামের বৃদ্ধ কুঞ্জ কর্মকার এবং তার পরিবারের কয়েকজন পুরুষ সদস্যকে হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে বাঁশ দিয়ে চেপে ধরে জীবন্ত পোড়ানো হচ্ছিল তার সঙ্গে চলছিল মহিলাদের ওপর পাশবিক অত্যাচার।ওই গ্রামেরই শিক্ষকের স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করার সময় বাধা দিলেন স্ত্রীকে চিৎ করে মাটিতে শুইয়ে তার বুকের ওপর স্বামীকে বসিয়ে নৃশংসভাবে ছুরি বল্লম দা দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হল।সঙ্গে উল্লাসিত মুসলমান দুর্বৃত্তরা আল্লাহু আকবার,মালাউনের রক্ত চাই,পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বণী দিচ্ছিল।এভাবে সমগ্র গ্রামের হিন্দু বাড়িগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল।


দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ধ্বংস-নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে সমস্ত হিন্দুদের একত্রিত করেন সোনাদানা কেড়ে নিয়ে বাড়ি ঘরের জিনিসপত্র লুঠ করে পুরুষদের কে নৃশংসভাবে হত্যা করে যুবতীদের অপহরণ করে মহিলাদের ধর্ষণ করা হলো।


চট্টগ্রামের জনপ্রিয় শিক্ষক অক্ষয় চক্রবর্তীকে কতিপয় মুসলমান ছাত্র প্রাণ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন তিনি তার ভাইকে পত্র দিয়ে জানালেন আমরা সকলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হইয়াছি চিঠির প্রথমে তিনি অভ্যাসবশত শ্রী শ্রী দুর্গা সহায় লেখার অপরাধে তারই মুসলমান ছাত্ররা তাকে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।করপাড়ার বৃদ্ধ হরিশ পন্ডিত নোয়াখালী হিন্দু নিধনের প্রধান সেনাপতি গোলাম সারওয়ারের শিক্ষক তারই প্ররোচনায় ঐ হরিশ পন্ডিত নিশংস ভাবে নিহত হন।


আমার হিসাব মতো কমপক্ষে ওই সময় ১৫০ থেকে ২০০ জন আসন্নপ্রসবা মহিলা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গর্ভপাত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শিশুসহ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু মুখে পতিত হন


ওই সময়কার অসংখ্য তথ্য আমার নিকট আছে কারণ ঐ সময় আমি স্বেচ্ছাসেবকের কাজে ওই অঞ্চলে গিয়েছিলাম আর কত লিখব! নোয়াখালী হাজার ১৯৪৬ সালের অক্টোবর নভেম্বর মাসের বর্বর মুসলিম অত্যাচারের সময় গঠিত Noakhali rescue,relief and rehabilitation committee এই দাঙ্গার কারণ এবং অত্যাচারের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখিত পুস্তিকা আকারে Noakhali Tipperah Tragedy কংগ্রেস সভাপতি আচার্য জেবি কৃপালিনী স্ত্রী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি সুচেতা কৃপালিনী তার মুখবন্ধে লিখে দিয়েছিলেন। সেই বই এখন দুষ্প্রাপ্য ইচ্ছা করেই দেশবিভাগের খলনায়করা সেই বইয়ের সব কপি ধ্বংস করে দিয়েছে।


নোয়াখালীর হিন্দু নিধনের পর গান্ধীবাবা যখন নোয়াখালীর শ্রীরামপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন নভেম্বর ১৯৪৬ তখন জওহরলাল আচার্য্য কৃপালনি সেখানে গিয়ে দেশভাগের সম্মতি আদায় করে আনেন (বিস্তারিত জানতে হলে আমার লেখা অকথিত কাহিনী পড়ে দেখতে পারেন)।নোয়াখালী থেকে ফিরে জওহরলাল নেহেরু ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের ওয়েলিংটন স্কোয়ার এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন,তখন  নোয়াখালীর সম্মেলনীর এক প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে একটা স্মারক লিপি দিতে গেলেন। তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং এই স্মারকলিপিতে সুরাবর্দী কে দিতে বলেন। ভগ্ন মনোরথ হয়ে তারা ফিরে আসেন।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom