Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

ধলা গণহত্যা ও আসামের ভাষিক সংখ্যালঘু উৎপীড়নের পটভূমি

ছবি সৌজন্য: লেখক


© শ্রী শুভাশীষ চৌধুরী

স্বাধীনতা পরবর্তী কালে এমন অনেক ঘটনার নিদর্শন রয়েছে অসম রাজ্যে, যা ভাষিক সংখ্যালঘুদের দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করে দেখতে গেলে এক অভিশপ্ত ও কলঙ্কিত অধ্যায়, যাহারে উপেক্ষা করিয়া চলিতে পারিলেই আমরা খুশি হই, কারণ সঠিক বিচারের আশা তো আমরা কোনো কালেই করিনি এই স্বাধীন দেশের বুকে। একটা রোজগারের ব্যবস্থা করে, খেয়ে পরে বাঁচতে পারলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট বলে মনে হয়। তবে এই মনোভাব একদিনে তৈরী হয়নি। 


সিলেট গণভোটের সময়েই তা স্পষ্ট ছিল যে, বঙ্গীয় মূল থেকে ছিন্নমূল হয়ে, অসম রাজ্যের অংশ হওয়াটা আমাদেরকে চিরকালের জন্য রাজনৈতিক ও আর্থিক দিক দিয়ে পঙ্গু করে গুটিয়ে রেখে দিবে। যেখানে মুসলিম লীগ গোটা সিলেটকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য করছিল, সেখানে অসমের শীর্ষ নেতৃত্ব সিলেটের বিরাট অংশ মুসলিম লীগের হাতে তুলে দিতেই অভিপ্রেত ছিল। তার কারণ ছিল সিলেটের ৪৫ শতাংশ বাঙালি হিন্দু জনসংখ্যা। মুসলিম লীগ এই হিন্দু জনসংখ্যা থেকে সিলেটের বড়ো একটি অংশ ছিনিয়ে নিতে লক্ষ্য করছিল, আবার অন্যদিকে অসম সরকার সিলেটের বড়ো অংশ মুসলিম লীগের হাতে তুলে দিতে অভিপ্রেত ছিল, যাতে করে অসমে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়ে যায়। এই ধার্মিক ও ভাষিক হিংসার বলি হতে হলো, দু দেশের সীমানায় আটকা পড়া হিন্দু বাঙালিদের তাদের নিজের রক্ত, জমি, মান - সম্মান ও সমস্ত ধরনের অধিকারের বিসর্জন দিয়ে। পরবর্তী কালে এই অন্যায় ভাবে বিভাজিত সিলেট থেকে যখন গুটিকয়েক বাঙালি হিন্দুরা অসমে পাড়ি দিতে শুরু করলেন মুসলিম লীগের ধার্মিক উন্মাদনা ও গণহত্যা থেকে রক্ষা পেতে, এই অসম রাজনীতির উগ্র ভাষিক নেতারাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের রব উঠিয়ে, জন্ম দিলেন আরেক ধরনের গণহত্যা নীতির, এবারে হত্যার মানদণ্ড ছিলো মুখের ভাষা। বিভাজনের সময়েই যদি সিলেটের অর্ধেক অংশ ভারতে অন্তর্ভুক্ত করে, ত্রিপুরার সহিত মিশিয়ে এক আলাদা রাজ্য স্থাপন করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়ত সিলেটের এক বিশাল অঞ্চল অন্যায় ভাবে হারাতেও হতো না, ছিন্নমূলমানুষের সংখ্যাটাও কম হতো, আর এই ভাষিক উৎপীড়নের মুখ থেকে বাঙালিরা রক্ষা পেতো। 


অসমের সাথে বিলয় ও পরবর্তী কালে ভাষিক আগ্রাসনের তকমা বাঙালিদের বিরুদ্ধে ঠেসে দেওয়ার কারণে যে হত্যালীলা শুরু হয়েছিল, তা আজ ও চলমান ও দৃশ্যমান। এই চলমান হিংসারই বলি হতে হয়েছিল ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর অসমের তিনসুকিয়ার ধলা অঞ্চলের পাঁচ বাঙালি হিন্দুকে। ৪ বছর অতিবাহিত হলেও, আজ পূর্যন্ত সেই ঘটনায় জড়িতদের কোনো শাস্তির খবর নেই। সরকার, পুলিশ বিভাগ ও ন্যায় ব্যবস্থা সকলেই আজ ধলা গণহত্যা ভুলাইয়া দিয়েছেন। তাদের প্রাণের দাম না এই রাজ্য দিতে পারলো, না এই রাজ্যের বাঙালি সম্প্রদায়। আমাদের ব্যার্থতার কারণটাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। 


স্বাধীনতা পরবর্তী কাল থেকেই আমাদের অসমের প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ পদ থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। আর এবারে যতদূর দেখা যায়, যেকোনো ধরনের সরকারি চাকরিতেই আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ পালন করা হয়। এমন ধরনের ভাষিক সংখ্যালঘুদের প্রতি অসম সরকারের আচরণ শুধু ভাষিক সংখ্যালঘুদের জীবনযাপন বিপন্ন করে না, অসমের ব্যাবসা বাণিজ্য ও এতে প্রভাবিত হয়। তবে যারা হিংসার চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছেন, তাদের জন্য সার্বিক উন্নয়ন থেকে, শ্রেণী বিশেষের উৎপীড়ন করাটাই শ্রেয় মনে হয় এবং তাহাই স্বাভাবিক। দেখতে দেখতে আরেকটা বছর পেরিয়ে গেলো ধলা গণহত্যার। আজও দুষ্কৃতীরা হয়তো দেশ বিদেশের কোনো একটা কোনে বসে অসুরিক অট্টহাসি  হাসছে মানবতা ও প্রশাসনিক অক্ষমতা দেখে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom