Breaking Posts

6/trending/recent
Type Here to Get Search Results !

চারদিন পরও অপরাধীদের গ্রেফতার করেনি মেঘালয় পুলিশ, আতংকে শিলঙের বাঙালিরা


শিলঙে বাঙালির উপর আক্রমণের ঘটনার চারদিন কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত একজনও অপরাধী গ্রেফতার করেনি পুলিশ। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের বক্তব্য তাঁরা নাকি অপরাধীদের খুঁজে পাচ্ছে না। হামলার দিন সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতিদের গ্রেফতার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেছিলেন তিনি এই ঘটনায় মর্মাহত। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত দুটি মামলাও করেছিল। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষ পুলিশের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। শিলং টাইমস পত্রিকার সম্পাদক তথা বিশিষ্ট লেখিকা পেট্রিসিয়া মুখিম এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যে জাতি-উপজাতিদের মধ্যে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেফতার করুক পুলিশ। এদিকে, অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে রয়েছেন শিলঙের বাঙালিরা। বিশেষ কারণ ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। শহরের বাঙালি ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকান খুলছেন না। এমনকি বাংলাভাষী সরকারি কর্মচারীরাও আতংকে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাভাষী সরকারি কর্মচারী জানান, তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে রয়েছেন। অফিসমুখো হতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁর সহকর্মীরাও তাঁকে কদিন অফিসে আসতে বারণ করছেন। ওই কর্মচারী জানান, শিলঙে বাঙালি সহ অ-উপজাতিদের নিরাপত্তা এখন প্রায় নেই। সরকার হাত গুটিয়ে বসে আছে। গত শুক্রবার প্রকাশ্য রাজপথে বাঙালিদের উপর আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু অপরাধীদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারিদের উপর আক্রমণ করে উগ্র উপজাতি সংগঠনের কর্মীরা। পরের বছর শিখদের উপর আক্রমণ করে। এই সময়ও পুলিশ হাত গুটিয়ে বসেছিল। পরে শিখ ও বিহারিদের তাদের নিজের জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ‍্য করা হয়েছে।


    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর কাজের দাবিতে রাজধানী শহরে মিছিল বের করে স্থানীয় উপজাতিদের সংগঠন ফেডারেশন তার খাসি জয়ন্তিয়া এন্ড গারো পিপলস। মিছিলটি শুরু থেকেই হিংসাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। সেদিন কাজের দাবিতে মিছিল বের করা হলেও মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কাজের দাবিতে কোনো স্লোগানই দেননি। তাদের মুখে স্লোগান ছিল, "হা রি না জং, কাটবা মন''। যার অর্থ, মেঘালয় আমার দেশ, আমি যা খুশি তাই করবো। এই স্লোগান দিয়ে মিছিল যখন বাঙালি নিবিড় জিএস রোডে ঢুকে, তারপরই বাঙালিদের বেছে বেছে আক্রমণ শুরু করে মিছিলকারীরা। বাঙালিদের দোকান ভাংচুর করেছে। বাহক আরোহীদের হেলমেট খুলে মুখ চিনে তারপর মারপিট করে। কুড়িটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলে। মারপিটে কুড়িজনের মতো আহত হয়েছেন। বেধম মারে এক অটো চালক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। উগ্র উপজাতি সংগঠনের কর্মীরা যখন বাঙালিদের উপর হামলা চালাচ্ছে, তখন দাড়িয়ে তা দেখছিল পুলিশ। মেঘালয়ে এনপিপি-বিজেপি জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের অউপজাতিদের উপর আক্রমণের ঘটনা কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারের কাজকর্মের বিরুদ্ধে যখন মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামেন, তখনই জাতি-উপজাতিদের মধ্যে বিরোধ বাধিয়ে দেওয়া হয়। আগামী বছরের গোড়ায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। পাঁচ বছর আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনপিপি-বিজেপি জোট ক্ষমতায় এসেছিল, তা যথারীতি কার্যকর করেনি ।উল্টো রাজ্যে সরকারি তহবিলের ব্যাপক নয়ছয়, খনিজ সম্পদ লুট হচ্ছে। কর্মসংস্থানের দরজা প্রায় বন্ধ। রাজ্যে কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রে নথিভুক্ত বেকারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬০ হাজার। যা '৭২ সালে রাজ্য গঠনের পর সর্বাধিক। এই ছোট্ট রাজ্যে প্রায় ৮ হাজারের সরকারি পদ খালি পড়ে আছে। এতে বেকাররা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। এছাড়া, ঠিকা ভিত্তিক শিক্ষকরা মাইনে না পাওয়ায় রাস্তায় নেমেছেন। প্রায় প্রতিদিন মেঘালয়ে লড়াই আন্দোলন চলছে। তা থেকে মুখ ফেরাতে উগ্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলিকে বাঙালিদের বিরুদ্ধে নেনিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এদিকে, মণিপুরের মতো মেঘালয়েও ইনার লাইন পারমিট করার চেষ্টা করছে জোট সরকার। তবে ইনার লাইন পারমিট এখনও না করলেও বাইরের লোকদের জন্য বিশেষ আইন পাশ করেছে কনরাড সাংমা সরকার। বাইরের রাজ্য থেকে শ্রমিক কিংবা পর্যটকরা মেঘালয়ে এলে তাদের ভারতীয় প্রমাণপত্র নির্দিষ্ট সরকারি অফিসে জমা দিতে হয়। কতদিন থাকবেন তা উল্লেখ করতে হয়। এই আইন বিশেষ করে বাঙালি শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।


    গত শুক্রবারের ঘটনার পর সঙ্ঘ পরিবারও মাঠে নেমে পড়েছে। ‛হিন্দু ছাত্র সংঘ’ নামের একটি সংস্থার উদ্যোগে রবিবার আসামের শিলচর শহরে ধরনা পালন করে খাসিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দাবি জানায়। তাঁরা মেঘালয়ে ফের আফস্পা প্রয়োগ করতে অমিত শাহর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। মেঘালয়ের উগ্র আঞ্চলিকতাবাদী ছাত্র সংগঠন খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নও বাঙালিদের 'ডকার' অর্থাৎ বহিরাগত বলে রাজ্য ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেঘালয়কে অশান্ত করে তুলতে জাতি-উপজাতিদের মধ্যে সংঘাত বাধাতে উসকানি দিচ্ছে বিভেদকামী শক্তি।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Ads Bottom